অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বার্মিংহামে আজ মুখোমুখি পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বার্মিংহামের এজবাস্টনে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। রবিবার ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিপর্যস্ত দুই দলই এখন জয়ের ধারায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালাবে। আগের ম্যাচে ভারতের কাছে ৬৫ রানে হেরে যাওয়া পাকিস্তানের সামনে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা। অন্যদিকে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬৪ রানে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আফ্রিকাও জয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই তাদের সামনে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের শেষ ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৭টি, যার মধ্যে চারটি জয় এসেছে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে গত ম্যাচে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তান ব্যাটিং বিপর্যয়ের চূড়ান্ত নজির দেখিয়েছে, যেখানে মুনিবা আলীর ৩৫ বলে ৪১ রান ছিল দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থা খুব একটা ভিন্ন নয়, তারাও গত ম্যাচে ১০৭ রানে অলআউট হয়েছিল। লরা ওলভার্টের ৩৯ বলে ৪৪ রান ছাড়া দলের কেউই বলার মতো স্কোর করতে পারেননি।
উভয় দলের জন্যই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্পিন সামলানো। ভারতের দীপ্তি শর্মা ৫টি উইকেট শিকার করে পাকিস্তানকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন, আর অস্ট্রেলিয়ার চার স্পিনার মিলে নিয়েছিলেন ৮টি উইকেট। এজবাস্টনে সাদিয়ার ইকবাল, ননকুলুলেকো ম্লাবা এবং নাশরা সান্ধুর মতো স্পিনারদের মোকাবিলা করা যে কোনো ব্যাটারের জন্যই অগ্নিপরীক্ষা হবে। তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন দলের মূল লক্ষ্য। নাদিন ডি ক্লার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা স্পিনের বিপক্ষে সাহসিকতার সঙ্গে খেলবেন এবং ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে পাকিস্তান দল যে লড়াই করতে প্রস্তুত, তার ইঙ্গিত দিয়ে ওয়াহাব রিয়াজ বলেছেন, তারা নির্ভীক ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশে মুনিবা আলী, গুল ফিরোজা, আয়েশা জাফর এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানার মতো ক্রিকেটাররা থাকছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ব্যাটিং লাইনআপে মারিজান ক্যাপকে তিন নম্বর পজিশনে ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের শুরুতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ম্যাচ চলাকালীন মাঠ শুকনো থাকার আশা করা হচ্ছে। এজবাস্টনের উইকেট বোলার এবং ব্যাটারদের জন্য সমান সুযোগ রাখছে, যেখানে গত ম্যাচে দীপ্তি শর্মার ঘূর্ণি জাদু কিংবা ফ্রেইয়া কেম্পের ৪ উইকেট শিকারের মতো পারফরম্যান্স দেখা গেছে। হার এবং সংশয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে দুই দলের খেলোয়াড়রাই এখন মরিয়া তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে। শেষ পর্যন্ত যারা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ভুল কম করবে, তারাই হাসি মুখে মাঠ ছাড়বে।