বিশ্বকাপের লড়াইয়ের আগে ছন্দে ফেরা রিচাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছে ভারত

দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে নামার আগে ভারতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা ও সংশয়ের দোলাচল ছিল বেশ প্রকট। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা কয়েক সিরিজ পরাজয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও তার দলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তবে টুর্নামেন্টের ঠিক প্রাক্কালে রিচা ঘোষের ব্যাট থেকে আসা ছন্দময় ইনিংস সেই উদ্বেগে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হারমানপ্রীত স্পষ্ট করেছেন, হারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সব সময় জয় পেতে থাকলে দলের কোথায় উন্নতির প্রয়োজন তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, কিন্তু পরাজয় অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। গত দেড় মাসে ভারত যে ভুলগুলো করেছে, তা নিয়ে ড্রেসিংরুমে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা চলছে।

ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে ফিনিশারের ভূমিকায় থাকা ২২ বছর বয়সী রিচা ঘোষের সাম্প্রতিক ফর্ম ছিল বড় মাথাব্যথার কারণ। ক্যারিয়ারের ছয় বছরে কখনোই লম্বা সময় ছন্দহীন থাকেননি এই ব্যাটার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্মের ভাটা দলের গভীরতায় প্রভাব ফেলেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৬ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে রিচা আবারও নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন, যা দলের কোচ আমোল মুজুমদারের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে।

কোচ আমোল মুজুমদার জানান, দলের ড্রেসিংরুমে সবাই জানতেন যে রিচার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্য মাত্র কয়েকটা ভালো শটই যথেষ্ট ছন্দ ফিরে পেতে। টুর্নামেন্টের আগে তার রানে ফেরাটা দলের জন্য দারুণ স্বস্তির বার্তা। রিচা মূলত ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করেন, যা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি। চাপের মুখে টিকে থেকে রান তোলার দক্ষতা তাকে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

দলের বর্তমান স্কোয়াডে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। আমানজট কৌর কিংবা কাসভি গৌতমের অনুপস্থিতি এবং পূজা বস্ত্রকারের বাদ পড়া মিডল অর্ডারে চাপের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিচার ওপর নির্ভরতা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। হারমানপ্রীত মনে করেন, মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী রিচা যেকোনো পজিশনে ব্যাট করার সক্ষমতা রাখেন এবং তার এই ফর্ম বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ভারতকে এগিয়ে রাখবে।

টুর্নামেন্টের আগে নেটে রিচার নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা দলের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। হারমানপ্রীতের ভাষায়, রিচার সেই খারাপ সময় এখন অতীত। একটি ভালো ইনিংস তাকে নতুন জীবন দিয়েছে এবং সেই ছন্দটাই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধরে রাখতে চায় ভারত। রিচার এই বিধ্বংসী রূপই কি ভারতকে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেবে, এখন সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই ক্রিকেট বিশ্ব।

0%
0%
0%
0%