আইপিএল ২০২৬ সাই সুদর্শনকে নিয়ে শুভমান গিলের বড় বয়ান গোপন শক্তির রহস্য ফাঁস

আইপিএল ২০২৫ এর শুরুতে যখন গুজরাট টাইটানস ঘোষণা করল যে জস বাটলারকে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করানো হবে, তখন ক্রিকেট বিশ্বে বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল। রাজস্থান রয়্যালস থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বাটলারের এই নতুন ভূমিকাকে ঘিরে ছিল নানা সংশয়। কারণ আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী এই ওপেনার বরাবরই ইনিংসের সূচনা করতেই অভ্যস্ত। তবে টাইটানস ম্যানেজমেন্ট শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শনের ওপর আস্থা রেখে যে জুটির জন্ম দিয়েছে, তা আজ দলের সাফল্যের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মৌসুমে গিল ও সুদর্শন ৯.৫৬ রান রেটে ৯১২ রানের জুটি গড়েছিলেন। চলতি আসরে সেই গতি আরও বাড়িয়ে ১০.৫৬ রান রেটে তারা সংগ্রহ করেছেন ৮৮৬ রান। রবিবারের ফাইনালে মাত্র ৫৪ রান যোগ করলেই তারা ২০১৬ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলি এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের গড়া সর্বকালের সেরা জুটির রেকর্ড ভেঙে দেবেন। গিলের মতে, মাঠ এবং মাঠের বাইরের গভীর বন্ধুত্বই তাদের এই রসায়নের মূল চাবিকাঠি। টেস্ট দলে একসঙ্গে খেলার সুবাদে তাদের মধ্যে নিয়মিত ক্রিকেট ও জীবনের নানা বিষয়ে আলাপচারিতা হয়, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে মাঠের পারফরম্যান্সে।
গিল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সাই সুদর্শনের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার কথা। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে একই তীব্রতা বজায় রাখা যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সুদর্শন সেটি অনায়াসেই করে চলেছেন। নেটে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ওপর তার বাড়তি নজর থাকে। গিল মনে করেন, সুদর্শনের এই মানসিক স্থিতি এবং রুটিনের প্রতি একাগ্রতা তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার ফুলঝুরি বা পাহাড়সম রানের মাঝেও গিল মৌলিক ক্রিকেটীয় দর্শনে বিশ্বাসী। তার মতে, গ্যাপ খুঁজে বের করা, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং ডট বলের সংখ্যা কমিয়ে আনা এখনো যেকোনো বড় দলের সাফল্যের মূল অস্ত্র। গত মৌসুমের ১৪৩.১৪ স্ট্রাইক রেটের বিপরীতে এবার পাওয়ার প্লে-তে গিলের স্ট্রাইক রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯.২০। তবে ফরম্যাট যা-ই হোক না কেন, নিজের খেলাকে প্রতিদিন উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
আইপিএলের বর্তমান উচ্চ স্কোরিং প্রবণতা নিয়ে গিলের বিশ্লেষণ বেশ চমকপ্রদ। তিনি মনে করেন, আগে আট দলের টুর্নামেন্টে উইকেটগুলো ছিল অনেকটাই একই ধাঁচের। এখন চার-পাঁচ দিনের বিরতিতে নতুন নতুন উইকেটে খেলার সুযোগ থাকায় ব্যাটাররা রান করার বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ধরমশালা থেকে আহমেদাবাদের দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি ডেকে আনলেও, ফাইনালের মঞ্চে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাকেই আসল বলে মনে করছেন গুজরাট অধিনায়ক। আহমেদাবাদের নিজস্ব মাঠে পরিচিত কন্ডিশনে খেলার বাড়তি সুবিধা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। এখন লক্ষ্য, অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম এবং দলের দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা ঘরে তোলা।