অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোল, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে স্পেন। লা রোজাদের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর পুরো স্পেন জুড়ে নেমেছে বাঁধভাঙা উল্লাস। সোমবার ভোর পর্যন্ত দেশটির শহর-বন্দরে স্প্যানিশ পতাকাবাহী সমর্থকদের মাতোয়ারা উল্লাস আর আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত ছিল আকাশ। বিশালাকার পর্দায় ম্যাচ দেখা সমর্থকরা ‘কাম্পেওনেস! কাম্পেওনেস!’ স্লোগানে মুখর করে তুলেছিলেন চারপাশ।

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনার দক্ষিণে অবস্থিত পর্যটন শহর কাস্তেলদেলফেলেসে এই উৎসব ছিল এক ভিন্ন মাত্রার। সেখানে বিশাল আর্জেন্টাইন প্রবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে দুই দেশের সমর্থকরা মিলেমিশে উপভোগ করেছেন শ্বাসরুদ্ধকর এই ফুটবল লড়াই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের আবাসভূমি হওয়ার সুবাদে শহরটিতে মেসিকে নিয়ে ভক্তদের আবেগ আজও তুঙ্গে। বহু সমর্থক গ্যালারিতে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো আয়োজনে যোগ করেছিল বিশেষ এক আবহ।

মেসির স্মৃতিবিজড়িত এই কাস্তেলদেলফেলেসের বেল্লামার পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মেসির বিলাসবহুল আবাসন ও সেখানে তার ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ আজও অনেকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনা দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু কাস্তেলদেলফেলেসের আমজনতার কাছে এসব ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল কেবল ফুটবল আর জয়ের আনন্দ। স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মৈত্রীর এক অনন্য নিদর্শন দেখা গেছে জিও এবং গেমা গঞ্জালেজের মতো পরিবারগুলোর মধ্যে।

আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জিও গঞ্জালেস নিজের দলের হারে কিছুটা হতাশ হলেও স্প্যানিশ স্ত্রী গেমার জয়ের আনন্দে শামিল হয়েছেন উদারভাবে। গেমা গঞ্জালেস ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, কঠিন লড়াইয়ের পর স্পেনই ছিল সেরা দল এবং এই শিরোপা তাদের প্রাপ্য ছিল। প্রবাসীদের এই মিলনমেলায় মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটবলের জয়গানই গাইতে দেখা গেছে সমর্থকদের।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%