বিশ্বকাপের নকআউটে রোমাঞ্চকর লড়াই স্পেন-পর্তুগালসহ আট দলের হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে এখন দলগুলো লড়ছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে। আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর সব লড়াই। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ষোলোর এই পর্যায়ে দর্শকরা দেখতে পাবেন কিছু হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়।
কানাডা ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াইটি এখন সবার নজর কেড়েছে। কানাডার গোলরক্ষক হিসেবে ইয়াসিন বুনু যখন কাতার বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষেই খেলেছিলেন, তখন ১-২ গোলে হেরেছিল কানাডা। তবে এবার কানাডা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দলের আক্রমণভাগে তাজোন বুকানন এবং আলফোনসো ডেভিসের গতি মরক্কোর রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অন্যদিকে, মরক্কো তাকিয়ে থাকবে বুনুর ওপর, যাতে অন্তত টাইব্রেকার পর্যন্ত ম্যাচটি টেনে নেওয়া যায়। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্সের।
ফ্রান্সের সামনে এবার প্যারাগুয়ের বাধা। ১৯৫৮ সালের ৭-৩ গোলের জয় কিংবা ১৯৯৮ সালের রোমাঞ্চকর জয়ের ইতিহাস ঘাঁটলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও, এবারের প্যারাগুয়ে দারুণ ছন্দে আছে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিধ্বংসী ফর্ম এবং মাইকেল ওলিসে ও আদ্রিয়েন রাবিওর মাঝমাঠের আধিপত্য বজায় থাকলে প্যারাগুয়ের পক্ষে ফরাসিদের আটকানো কঠিন হবে।
ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের বিতর্কিত সেই পেনাল্টির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে নরওয়েকে ব্রাজিল এখনো হারাতে পারেনি। তবে এবার এন্ড্রিকের মতো তরুণ তুর্কির ওপর ভরসা রাখছে সেলেসাওরা। অন্যদিকে, মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে পাহাড়সম উচ্চতা মেক্সিকোর বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। গুইদালজারা এবং মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর রাউল হিমেনেজ ও জুলিয়ান কুইনোনেসের জুটি ইংল্যান্ডের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। হ্যারি কেইন অবশ্য ব্রিটিশদের বড় ভরসার জায়গা।
যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে আছে মার্কিনরা। ফোলাডিন বালোগুনের অনুপস্থিতিতে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা রিচার্ড পেপি ও হাজি রাইটের ওপর নির্ভর করবে। তবে বেলজিয়ামের রুডি গার্সিয়া যে কোনো মুহূর্তে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি ডকুর অভাব পূরণ করতে ডোডিল লুকিবাক্য ও নিকোলাস রাসকিন প্রস্তুত।
সবশেষে রয়েছে স্পেন ও পর্তুগালের মহারণ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ সুযোগ এবং রবার্তো মার্টিনেজের কৌশলী ফুটবল পর্তুগালকে লড়াইয়ে রাখবে। তবে দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল এবং মিকেল ওয়ারজাবালকে নিয়ে গড়া স্পেনের আক্রমণভাগ বর্তমান টুর্নামেন্টে অজেয় হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১০ সালের ১-০ গোলের জয় কিংবা ২০১৮ সালের সেই বিখ্যাত হ্যাটট্রিকের পর এবার দুই দলের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
