সালাহর জাদুতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরের ইতিহাস গড়া জয়

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। প্রথমার্ধের পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে মিশর। এই জয়ের মাধ্যমেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফারাওরা। লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ এবং মোস্তফা জিকোর ছন্দময় ফুটবলে ভর করে গ্রুপ ‘জি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে ফিন সারম্যানের হেড থেকে গোল করে কিউইদের এগিয়ে দিয়েছিলেন। বিরতি পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে ম্যাচে চালকের আসনে ছিল নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে ফেলে মিশর। ৫৮তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রসে মোস্তফা জিকো হেডের মাধ্যমে গোল করে সমতা ফেরান। এরপরই শুরু হয় সালাহ-জিকো ম্যাজিক। ৬৭তম মিনিটে জিকোর চতুর পাস থেকে বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন মোহাম্মদ সালাহ। এটি ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সালাহর ৬৮তম গোল।
ম্যাচের শেষদিকে ৮২তম মিনিটে ট্রেজেগে গোল করে মিশরকে বড় জয় নিশ্চিত করেন। সালাহর নেয়া কর্নার কিক থেকে ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান ট্রেজেগে। এটি ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার ২৪তম গোল। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির, তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে নিউজিল্যান্ডের আক্রমণভাগকে আটকে রাখেন। অন্যদিকে কিউই গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকম্বেও চারটি সেভ করেও দলের হার এড়াতে পারেননি।
৮৫তম মিনিটে যখন সালাহকে মাঠ থেকে তুলে নেয়া হয়, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত মিশরীয় সমর্থকরা তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত সালাহ বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে এই জয় ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় অর্জন হিসেবে টিকে থাকবে। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, বিসি প্লেসের এই পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল আমরা যেন নিজ দেশ মিশরেই খেলছি।
গ্রুপের অপর ম্যাচে বেলজিয়াম ও ইরান গোলশূন্য ড্র করায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মিশর। শুক্রবার নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরানের মুখোমুখি হবে তারা, যেখানে ড্র করলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে তাদের। অন্যদিকে, প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা নিউজিল্যান্ড একই দিনে বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে। এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে ওঠার পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে ফেলল মোহাম্মদ সালাহরা।