প্রথম রাজশাহী সফরে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে পুরো রাজশাহীজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। এদিন দুপুরে তিনি নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং পরবর্তীতে বিকেলে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর বক্তব্য শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন উত্তরাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান ও জনসভাস্থলের প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তারা মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর থমকে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, কুমারপাড়া গুলগফুর পেট্রোল পাম্প থেকে বড়কুঠি হয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর ও ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ, এবং নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের উন্নয়ন, ফুটসাল গ্রাউন্ড ও সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সর্বোচ্চ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজশাহী মেট্রোপালিটন পুলিশের (আরএমপি) উপপুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর অবতরণস্থল থেকে শুরু করে তাঁর পরিদর্শনকৃত স্থান এবং যাতায়াতের পুরো রুটটি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুসংহত ও সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে পুরো সফর ও জনসভা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

০%
০%
০%
০%