ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রতারণা ও উন্নয়নের নামে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করা হয়নি। এখন উপনির্বাচন সামনে রেখে পুনরায় একই প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ডের নাম করে মূলত জনগণের ট্যাক্সের টাকাই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার। তেলের দাম ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দিয়েই এখন ফ্যামিলি কার্ডের নাটক সাজানো হচ্ছে।'
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, 'আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার, সার সিন্ডিকেটমুক্ত কৃষি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যদি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে গদি ছেড়ে দিন। অন্যথায় জনগণ তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।'
ঠাকুরগাঁওয়ের তথাকথিত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, 'উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলা হলেও বাস্তবে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে আপনারা মূলত ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেটের রাজনীতি ও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাচ্ছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সচেতন জনগণ আপনাদের সেই সুযোগ আর দেবে না।'
মাদক নির্মূলে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের ছত্রছায়াতেই এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। যারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়, তাদের পক্ষে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের পাশাপাশি বিদেশি সহায়তায় ঠাকুরগাঁওকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক মডেল জেলায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।