কাজে ফেরার পণ আফগান পেসার নাভিন উল হকের দীর্ঘ চোটে পড়ার পর

সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ঠিক আগে ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র কুড়ি মিনিট পূর্বে বড় এক মানসিক ধাক্কার মুখোমুখি হন আফগানিস্তানের পেসার নাভিন-উল-হক। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের আশা জাগিয়েও কাঁধের ইনজুরির পুনরাবৃত্তির কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই ছিটকে পড়েন এই পেসার। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি, কিন্তু পুরনো ইনজুরি তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।

দীর্ঘ নয় মাস ধরে ফিটনেস নিয়ে কাজ করা, কাঁধের রিহ্যাব সম্পন্ন করা এবং কঠোর পরিশ্রমের পর মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের ধাক্কা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে জানান এই পেসার। টসের মাত্র কুড়ি মিনিট আগে ইনজুরি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তিনি নিজে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কঠিন এই সময়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসার পর এমন বিপত্তি তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিলেও তিনি এটিকে পেশাদার জীবনের একটি অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।

ক্রিকেট এবং বিশেষ করে পেস বোলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ায় ইনজুরি, সার্জারি এবং রিহ্যাব যে এর সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা স্বীকার করে নিয়েছেন নাভিন। তার মতে, এমন কোনো পেসার পাওয়া যাবে না যিনি কখনো সার্জারি বা রিহ্যাবের মুখোমুখি হননি। পেস বোলিংয়ের গ্ল্যামার ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার পাশাপাশি ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মিস করার মতো কঠিন বাস্তবতার জন্যও একজন পেশাদার খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়।

ডান কাঁধের স্ট্রেস ইনজুরির কারণে তার ক্যারিয়ার কিছুদিন থমকে ছিল এবং এর ফলে এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও মাঠে নামা হয়নি তার। স্ট্রেস ফ্র্যাকচার আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে নিরাময় হলেও কাঁধের ক্যাপসুল শক্ত করার জন্য ল্যাব্রাম রিপেয়ারের দ্বিতীয় দফায় সার্জারি করাতে হওয়ায় তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ডিসেম্বরের পর থেকে কোনো ধরনের পেশাদার ক্রিকেটে অংশ না নেওয়া এই পেসার এখন সাত থেকে আট বছর শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন।

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও হাল ছাড়তে নারাজ ২৭ বছর বয়সী নাভিন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টির পর মাঠের এক কোণে একা বসে থাকার সময় ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের মুখোমুখি হন। আইপিএলে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে গম্ভীরের সঙ্গে তার কথা হয় এবং ভারতীয় কোচ তার ইনজুরি ও না খেলার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাকে সান্ত্বনা ও সমর্থন জানান। অতীতের কষ্ট ভুলে এবং পেছনের দিকে তাকিয়ে আফসোস না করে, সমস্ত বাধা পেরিয়ে আবারও মাঠে ফেরার উপায় খুঁজছেন এই আফগান পেসার।

০%
০%
০%
০%