Advertisement

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে রহস্যের মুখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বরং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে পুরোদস্তুর বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করে এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই বলে মন্তব্য করেন।

সাংবিধানিক বিধানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। অথচ যুক্তরাজ্যের ‘কোম্পানিজ হাউজ রেজিস্ট্রার’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির এখনো ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং তার আবাসস্থল যুক্তরাজ্য হিসেবেই নথিবদ্ধ রয়েছে। এমনকি অতীতে একটি ব্রিটিশ কোম্পানির পরিচালক হিসেবেও তার নাম পাওয়া গেছে, যা তার নাগরিকত্ব নিয়ে জনমনে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

বিজ্ঞাপন

নিজের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে হুমায়ুন কবির বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, কোন সংবাদপত্র এটি প্রকাশ করেছে এবং কেন তাদের এত জ্বালা হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকের দিকে ইঙ্গিত করে ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং তাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য যে, হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা এবং লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তার এই নাগরিকত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ধোঁয়াশা বাংলাদেশের রাজনীতির আঙিনায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, দেশপ্রেমিক এবং দেশের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের সহায়তায় সরকার এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত- কার এত জ্বালা
0%
0%
0%
0%