Advertisement

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতায় ঝুলে আছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর তৎপরতা। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। তবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তার প্রত্যর্পণের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতায় এই সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে, সফর চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণটি মূলত দুই প্রেক্ষাপটে এসেছে। প্রথমত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ, এবং দ্বিতীয়ত, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ। যদিও ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সফরের প্রস্তুতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে ঢাকা ভালোভাবে নেয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, শেখ হাসিনার এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।

কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সফরটি চূড়ান্ত হলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, আন্তসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ট্রানজিট সুবিধা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। এছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলোও এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে হাইকমিশনারের দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তা অবহিত করা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সফরটিকে মর্যাদাপূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরির এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ভারতের জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জায়গা এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের মেলবন্ধন—এই দুইয়ের ওপরই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ভবিষ্যৎ।

0%
0%
0%
0%