Advertisement

জনগণের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিভ্রান্তি ছড়ানো নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া সরকার হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তার আগে বিকেল ৪টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার অত্যন্ত সচেতন। গত দুই মাস আগে উপস্থাপিত বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটার সুযোগ না পায়। অতীতে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নজির থাকলেও এবার সরকার কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গুরুতর রোগ ছাড়া চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে আর জেলা শহরে ছুটতে হবে না। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তার দাবি, বিগত ১৭ বছরের দুঃসময়ে রাজপথে যাদের দেখা যায়নি, তারা এখন নানা সংস্কারের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। অথচ বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০২২ সালেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম জনগণের সামনে উত্থাপন করা হয়েছিল।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তকারীদের চক্রান্তের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। দেশের মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই অগ্রযাত্রাকে কোনো অপশক্তি যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

সম্পর্কিত- প্রধানমন্ত্রী
0%
0%
0%
0%