সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সুরক্ষায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, জনবল সংকট এবং প্রবাসীদের সেবার মান নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশটিতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর আইনি সহায়তা, নাগরিক সেবা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মিশনগুলোর জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান আমূল পরিবর্তনের ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করে কমিটি। একই সঙ্গে, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনগুলোর আধুনিকায়ন এবং প্রবাসী সেবার মানোন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে একটি সুনির্দিষ্ট উপস্থাপনা দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ সেবা এবং হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের তিনটি মিশন সক্রিয় রয়েছে—রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) স্থায়ী মিশন। কার্যপত্র অনুযায়ী, এসব মিশনে কর্মরত মোট কর্মকর্তার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে শুধু পুরুষ কর্মীই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫৩তম আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ এবং কমিটির সভাপতি আইপিইউর নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকের কার্যপত্রে অবৈধভাবে বিদেশ গমন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি, ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অপপ্রচার ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তিমূলক প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলামসহ পররাষ্ট্র সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।