পানি আগ্রাসন মোকাবিলায় সরকার সজাগ, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশবাসীকে অধিকতর সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বন্যা কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মানদণ্ডটি বন্ধুত্বের হওয়া উচিত, যেখানে একে অপরের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া কাম্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের আগ্রাসন রুখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের রেশ কাটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপে নতি স্বীকার না করে সরকারি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে নিজের অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রকোপ থেকে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ স্থায়ী মুক্তি পাবে। জমির প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের মাধ্যমে এলাকার সেচ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

০%
০%
০%
০%