অন্তর্বর্তীকালীন আমলের ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন। এসময় মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ভুয়া, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট অথবা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে এসব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও নির্দেশ দেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলাগুলোর তদন্তে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা সতর্ক থাকবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত সেগুলো ফেরত প্রদান করা হয়। চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বের লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহের মধ্যে যা যাচাই-বাছাই অন্তে নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে বলে প্রতীয়মান হবে, সেসব লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা দায়ের এবং বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। এ অনুযায়ী, সড়ক-মহাসড়ক এবং রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।

তিনি আরও জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ‘পুশব্যাক’-এর আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাদক, জুয়া এবং অনলাইন বেটিং-এর বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে।

প্রেস ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%