সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করছে সরকার

সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে মঙ্গলবার নবনির্মিত ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন যে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এখন থেকে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে এই উদ্যোগটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তের দুর্গম এলাকায় প্রচলিত পাহারার পাশাপাশি থার্মাল ও নাইট মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এই ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের অপর প্রান্তের যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। বিজিবিকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড্রোন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ভবিষ্যতে নিজস্ব কারখানায় ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি কেবল দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য সহায়ক হবে না, বরং দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজেও ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন।
মব সংস্কৃতির অপতৎপরতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে এবং ইতিমধ্যে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
