Advertisement

২১৭ কোটি টাকার সিলেট-ছাতক রেল প্রকল্প ধীরগতিতে চার বছরেও অনিশ্চিত ট্রেন চলাচল

সিলেটের ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে ট্রেন চলাচল প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ থাকায় জনমনে তীব্র অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য ২১৭ কোটি টাকার বেশি বাজেটের প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কবে পুনরায় সচল হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতক বাজার মিটারগেজ রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত, যার মধ্যে রেলপথ সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত এবং নতুন স্লিপার ও রেললাইন বসানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিংহভাগ কাজই অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর ও ছৈলা-আফজলাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক এলাকায় রেললাইন অপসারণ করা হলেও নতুন ট্র্যাক বসানোর কাজ থমকে আছে। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেলপথের লোহার পাত ও মূল্যবান স্লিপার চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রেলপথটি অকেজো থাকায় সড়কপথে পণ্য পরিবহনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন সময় বৃদ্ধি ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জের প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মালামাল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহন ও সুলভ যাতায়াতের জন্য এই রেলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করতে সংশ্লিষ্টরা আরও এক বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথে পুনরায় কবে ট্রেনের হুইসেল শোনা যাবে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় কাটছে না।

0%
0%
0%
0%