Advertisement

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও কঠোর টহলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে সুদিন

বাগেরহাটের সুন্দরবন অঞ্চলে বনরক্ষীদের কঠোর টহল, স্মার্ট প্যাট্রোলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারিতে বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন কেবল গাছপালা আর নদী-খালের সমষ্টি নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সুরক্ষার এক অনন্য দুর্গ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল এই বন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে উপকূলীয় মানুষের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

দীর্ঘদিন ধরে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসকারী চক্র বনের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে বন বিভাগের নিবিড় নজরদারি ও অভিযানের ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে চলতি বছর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস বনের প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়ে হরিণ শিকার রোধে বড় সাফল্য পাওয়া গেছে। এ সময়ে কোনো হরিণ নিধনের ঘটনা ঘটেনি এবং শিকারিদের পেতে রাখা ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট নাইলন ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হরিণ শিকার ও চোরা শিকারিদের তৎপরতা অনেক কমেছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের একই সময়ে ২০টি মামলায় ১২ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার করা হলেও এ বছর অবৈধ কর্মকাণ্ডের হার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বনের গহিনে ও জলজ পরিবেশে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রবণতাও বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক হ্রাস পেয়েছে।

দুর্গম বনাঞ্চলে ফুট প্যাট্রোলিং, স্মার্ট প্যাট্রোলিং এবং বোট প্যাট্রোলিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বনরক্ষীদের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বন বিভাগের এই আধুনিক নজরদারি সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সুন্দরবন রক্ষায় বনরক্ষীদের শূন্য পদ পূরণ, দ্রুতগতির নৌযান বাড়ানো এবং জেলেদের নৌযানকে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিনির্ভর। দুর্গম এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুন্দরবন সুস্থ থাকলে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং প্রাকৃতিকভাবেই এই অঞ্চল দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম থাকবে।

মোংলা-রামপারের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও অমূল্য সম্পদ। তিনি বনরক্ষীদের জনবল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় বনজীবী ও জেলেদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

0%
0%
0%
0%