দুমকিতে বেদখল ও ভরাট দশ খাল অস্তিত্বের সংকটে ব্যাহত কৃষিকাজ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সরকারি রেকর্ডের ১০টি খাল দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। কৃষিপ্রধান এই জনপদের সেচ সুবিধার প্রধান উৎস এসব খাল দখল করে দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলায় স্থানীয় কৃষকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
উপজেলার পিরতলা বাজারসংলগ্ন খাল, দুমকি সাতানি খাল, জামলার খাল, ফেদিয়ার খাল, কালাখালি খাল, কচ্ছপিয়া খাল, গোদার খাল এবং মুরাদিয়া বোর্ড অফিস সংলগ্ন খালসহ অন্তত ১০টি জলাশয়ে স্থায়ী বাঁধ ও ভরাট কাজ চালিয়ে দখল করা হয়েছে। দখলদাররা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির দোহাই দিয়ে সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে পাকা স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের দুমকি সাতানি মৌজার ২২৭ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাল ভরাট হওয়ায় আঠারোগাছিয়া ও কার্তিকপাশা গ্রামের কয়েকশ হেক্টর ফসলি জমির সেচ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা গোদার খালে স্লুইস গেট স্থাপনের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলজিইডির নির্মিত পাকা সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ফেদিয়া ও কালাখালি খালের পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে গেছে।
এসব খাল দখল ও ভরাট হওয়ার ফলে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের অভাবে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আঠারোগাছিয়া গ্রামের কৃষক কবির হোসেন জানান, পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষিজীবীরা প্রতি বছর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। খাল উদ্ধারে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
