Advertisement

আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে চাকরি হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যার বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইকবাল হোসাইন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি, যা সরকারি আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে চরম অবজ্ঞা ও দায়িত্বহীনতার শামিল।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাষায় গুলি চালানোর বর্ণনা দিতে শোনা যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর জবাব দেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গৃহীত কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি বিধি মোতাবেক গত ২৮ আগস্ট থেকেই এই বরখাস্ত কার্যকর বলে গণ্য হবে।

0%
0%
0%
0%