জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ সরকারের

দেশের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় শহরগুলো দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা প্রতিটি জেলায় বিস্তৃত করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যম ব্যবহার করে স্থানীয় নিয়োগদাতা এবং চাকরিপ্রার্থীদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং বেসরকারি খাতকে এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং একটি টেকসই প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা। তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে চাল, ডাল, তেলসহ সাতটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর ফলে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজারে তা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত অবকাঠামোগত স্থবিরতা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে তারেক রহমানের নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, স্বাস্থ্য খাতে শিগগিরই ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে, যেখানে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করতে ডিজিটাল সাম্য নিশ্চিত করা এবং পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উক্ত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং সংসদ সদস্য মাধবী মারমা। অনুষ্ঠানটিতে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
