আদিবাসী পরিচয়ে বিভাজনের সুযোগ নেই, নাগরিকদের মূল পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের সকল নাগরিকের পরিচয় কেবল ‘বাংলাদেশি’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আদিবাসী পরিচয়কে কেন্দ্র করে দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও সাংবিধানিক অধিকারের ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান এবং এই পরিচয়ের ভিত্তিতেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো এখনো বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নিজেদের স্বার্থে ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এই ভূখণ্ডের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সংগ্রাম বহু প্রাচীন। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সবাইকে আদিবাসী পরিচয়ের বদলে অধিবাসী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান।
জুলাই চার্টারের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার এই দলিলে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল নাগরিকের মূল পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর ভাষা এবং আগামী অষ্টম সংশোধনীতেও একই বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর কোনো প্রশ্নের পেছনে না ছুটে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সবাইকে এক কাতারে শামিল হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের জননীতিকে অভিবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিবেচনা করার অবকাশ নেই। কোনো মহল বা গোষ্ঠীর তৈরি করা ফাঁদে পা না দিয়ে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আহমেদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদরাও সভায় অংশ নেন।
