জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের দশ সদস্যকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের হাতে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
নিয়োগপত্রপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত আব্দুল মতিন ও জুলফিকার আলমের স্ত্রী যথাক্রমে সাবানা আক্তার ও আরজু আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত দেশের সংকটময় মুহূর্তে মানুষের অসামান্য আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন। তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, যাদের আমরা হারিয়েছি কিংবা যারা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জন্য কী অবদান রাখা গেল, সেটিই মুখ্য। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগদানকারী শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত যোদ্ধা সোহেলি তামান্না উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনজন জুলাই যোদ্ধাকে যানবাহন উপহার দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে একটি সিএনজি অটোরিকশা, দুটি প্যাডেলচালিত ও দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। উপহারপ্রাপ্তদের মধ্যে মিরপুর বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ পেয়েছেন একটি সিএনজি অটোরিকশা, যিনি আন্দোলনে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টারে আহত হয়েছিলেন।
কুষ্টিয়ার মো. গফফার পেয়েছেন দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা, যিনি আন্দোলন চলাকালীন আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিক ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া বগুড়ার ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশু পেয়েছেন দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। প্রধানমন্ত্রী এসব যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের জীবিকা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন।
