রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক স্নায়বিক জটিলতা শনাক্ত হয়েছে। এই রোগজনিত কারণে তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ছেন, যা তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার এই আকস্মিক পদত্যাগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। এ সময় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি রাষ্ট্রপতির অগাধ শ্রদ্ধা ও পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেদিন তিনি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও তার নেয়া ছিল। এটি মূলত সাংবিধানিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%