মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। মেধা, দূরদর্শিতা, সততা ও আদর্শিক নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে তিনি আজও বাঙালির হৃদয়ে শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাজউদ্দীন আহমদ সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি ভাষা আন্দোলন ও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সংগঠনটিকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচারে প্রধান সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলে তাজউদ্দীন আহমদই অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় সাধন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তিনি অসাধারণ বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের পর থেকে তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পুরো দেশ ১১টি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে সুসংগঠিত সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো লাভ করে।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকালে প্রায় এক কোটি শরণার্থীর আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং পরবর্তীতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরিতে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তাজউদ্দীন আহমদকে বন্দি করা হয় এবং একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায় জেল হত্যা দিবস হিসেবে চিহ্নিত। ক্ষমতার চেয়ে আদর্শকে সর্বদা ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া এই মহান নেতার সততা, আত্মত্যাগ ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের আদর্শ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশেও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন আলোকবর্তিকা হয়ে টিকে আছে।