অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের গুঞ্জন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে এ বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পাঠিয়েছে। এদিকে বঙ্গভবনের একটি সূত্র দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে তার অধস্তন কর্মকর্তাদের দ্রুত বঙ্গভবন ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পরবর্তী ধাপে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে। শুরুতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম শোনা গেলেও, বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। অবশ্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ধরনের কোনো বিষয়ে অবগত নন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সামনে আসবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করেছিল। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত তাঁকে অপসারণের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়নি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার থাকাকালীন এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছিল। এখন তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে।

0%
0%
0%
0%