AdvertisementAdvertisement

মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুনত্ব আনতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন ও কৃষিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার পাশাপাশি মন্ত্রিসভার পরিধিও সম্প্রসারিত করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার আকার যেভাবে সময়ের প্রয়োজনে সম্প্রসারিত হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটতে পারে। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের উপদেষ্টামণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যাও পর্যায়ক্রমে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভার রদবদল অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে এর সময়কাল বা পদ্ধতি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত। তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় উপযুক্ত সময়েই যেকোনো পরিবর্তন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে পারেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যের কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহাদী আমিনকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। একইভাবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সাম্প্রতিক কিছু অতিকথন ও বিতর্কের কারণে তাঁর দপ্তরে পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতি চিহ্নিত হওয়ায় কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমিয়ে দক্ষ সংসদ সদস্যদের নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে। নোয়াখালী অঞ্চলের প্রবীণ রাজনীতিক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকসহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ এবং মো. মজিবুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকে মন্ত্রিসভায় দেখার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে।

জোটের শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও আন্দালিব রহমান পার্থসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সম্ভাব্য রদবদল সাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম থাকছে, তা জানার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

0%
0%
0%
0%