ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরীক্ষার ফি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার

দেশজুড়ে প্রকট আকার ধারণ করা ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের উত্থাপিত এক জরুরি নোটিশের জবাবে তিনি এই প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পরীক্ষা ফি হ্রাস এবং কিট ও স্যালাইন মজুতের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২১০ জনে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৮ জন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত বছরের তুলনায় চলতি সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে এবং আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি কিট মজুত রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট সরবরাহ করা হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনতে সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্ধারিত ফি মেনেই রোগীদের সেবা প্রদানে সম্মতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার মতো আগাম প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
চিকিৎসা অবকাঠামো শক্তিশালী করতে জেলা পর্যায়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় এই সুবিধা যুক্ত করা হবে। মশা নিধনে স্থানীয় সরকার বিভাগের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিশেষে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, মশা অতি ক্ষুদ্র পতঙ্গ হলেও জনবহুল এলাকায় খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে। অনেক সময় সচেতনতার অভাবে বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করা, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।