চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের মৃত্যু

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলায় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় এ পর্যন্ত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার পর্যন্ত গত তিন দিনে মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার বেলা তিনটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানির ভয়াবহ ঘটনাগুলোর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। বুধবার দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরের একটি মাদ্রাসার দেয়াল ও পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই পাঁচ ছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু অবস্থান করছিল।

এদিকে চট্টগ্রামে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী এক শিশু প্রাণ হারায় এবং দুপুরে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় ধসে পড়া পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে তেরো বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়। এ ছাড়া গত রোববারের টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আরও ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার শুরু থেকেই দুর্যোগ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের অভাবে প্রাণহানির মাত্রা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল জানান, আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকার পর এখনকার এই আকস্মিক ভারী বর্ষণ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা ও উদ্ধারকাজ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, উখিয়ার দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

0%
0%
0%
0%