বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল জামালপুর, উত্তরণে নতুন সঞ্চালন লাইনের আশ্বাস মন্ত্রীর

গ্রামাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সংকট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের রোষানলে পড়া জনপ্রতিনিধিদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২১তম দিনের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকালে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার নির্বাচনী এলাকা মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একইভাবে অফ-পিক আওয়ারে ৩৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর ফলে ওই এলাকায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, ঠিক কবে নাগাদ এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে এবং এলাকাবাসী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার নিশ্চয়তা পাবে।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণেই মূলত এই সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বড় টাওয়ার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা ও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘসময় কাজ বন্ধ ছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, জয়দেবপুর-শম্ভুগঞ্জ ট্রান্সমিশন লাইনের ভালুকা অংশের জমি-সংক্রান্ত মামলায় সরকার আইনি জয় পেলেও কাজের গতি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তার কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া গেলে দ্রুতই এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।