বেতনের একাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নজির স্থাপন করেছেন। সোমবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী এই কৃচ্ছ্রসাধন ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সোমবার বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী বেতনের একটি অংশ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারেক রহমানের মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, যার ১০ শতাংশ বা ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ছে। এই অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও সরকারের জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুনাফালোভী একটি চক্র অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান অপারেশনের দিকে রোগীদের ঠেলে দিচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা জটিলতার দোহাই দিয়ে অসাধু দালালচক্র সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন এবং চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে অপতৎপরতা না চালানোর আহ্বান জানান।
মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। এই নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে জনবল নিয়োগের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরেই এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার পদে নারীদের নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার সিংহভাগই মিডওয়াইফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানসম্মত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার ৮০০ জন দক্ষ ধাত্রী প্রশিক্ষিত হয়ে বের হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে তারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বছরে মাত্র ৫০০ জন ধাত্রী কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। দক্ষ জনবলের এই বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর বক্তারা বিশেষ জোর দেন।