দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত 'বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। হাওড়, বাওড়, নদীনালা এবং সমুদ্রেও মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে সফল গবেষণার ফলেই আজ জাতি মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সংকট উত্তরণে চলতি বছর থেকেই বড় ধরনের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাদ্য ব্যবহার পরিহার করে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী দিনে পর্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করার সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করা জরুরি। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পেলে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান এবং বিএআরসি'র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড. মো: আমিরুল ইসলাম। কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানী, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।