সুন্দরবনের গহীনে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকীর যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনের নির্দিষ্ট এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই সফল উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ কবীর শামিত এই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে বাহিনীটির পক্ষ থেকে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে কয়রা ও দোবেকী স্টেশনের যৌথ দল সুন্দরবনের নির্দিষ্ট পয়েন্টে অভিযান চালায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বনের গহীনে অবস্থানরত ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সদস্যরা অতর্কিতভাবে কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এ সময় আত্মরক্ষা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা জবাব দেন। উভয় পক্ষের তীব্র গোলাগুলির একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের দৃঢ় অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে দস্যুরা জিম্মি জেলেদের ফেলে রেখে বনের আরও গভীরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়। তবে দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলে হলেন—সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)। দস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও কার্তুজ জব্দের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া জেলেদের যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধী চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।