চলতি অর্থবছরেই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন

চলতি অর্থবছরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে এই প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সরকার এ বছরই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীন সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাদের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নদী ব্যবস্থাপনায় চীন বাংলাদেশকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এবং এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
নদীভাঙন ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ভয়াবহ সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ফারাক্কাসহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ নদ-নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আদলে বর্তমান সরকার একটি নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।
খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রয়োজনে তা ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। গত চার মাসে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম শুধু পানি প্রবাহই স্বাভাবিক করবে না, বরং সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে বহুগুণ গতিশীল করে তুলবে।
বাজেট আলোচনায় বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুফলের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনে এই কর্মসূচি বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা তাদের ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী করে তুলছে। বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও জুলুম-নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই আজ জাতি স্বাধীন সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। যারা অতীতে দেশের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে, তাদের দুঃস্বপ্ন দেশের মানুষ আর কখনো মেনে নেবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।