সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান স্পিকারের

জাতীয় সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয় এবং এখানে যেকোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়ম ও সময়সীমা মেনে চলা বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার। মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরুর পর রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনেই সংসদ পরিচালিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের ৩৫০ জন সদস্যের প্রত্যেকেরই সমান অধিকার রয়েছে, তবে সেই অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো অনুসরণ করা আবশ্যক।
পয়েন্ট অব অর্ডার উপস্থাপনের যথার্থতা নিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরই মূলত পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ থাকে। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনার সুযোগ থাকে বলে এ সময় পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন সীমিত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ প্রদান করা জরুরি।
সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের বক্তব্যের সূত্র ধরে স্পিকার বলেন, শিক্ষকদের সমস্যা এবং বেতনবঞ্চিত পৌর কর্মচারীদের দুর্দশার বিষয়ে তার উদ্বেগকে আমি সম্মান জানাই। তবে সংসদীয় কার্যক্রম মুখোমুখি পরিচালনার বিষয় নয়, বরং তা বিধিবদ্ধ নিয়মে নিয়ন্ত্রিত। তিনি সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করা হতো, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হতো।
পরিশেষে স্পিকার সকল সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার কেবলমাত্র চলমান ও জরুরি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই উত্থাপিত হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে সংসদের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে কথা বলার জন্য তিনি সবিনয় অনুরোধ জানান।