আমদানি রপ্তানির আড়ালে বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচার নিয়ে সংসদে বিতর্ক

জাতীয় সংসদের সোমবারের অধিবেশনে আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ তোলেন যে, প্রতি বছর বাণিজ্যের ছদ্মাবরণে দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এহেন অর্থপাচার রোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে তিনি মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন।
উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি অনুমাননির্ভর ধারণা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি খাত বর্তমানে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে গত অর্থবছরে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এত বৃহৎ ও বিস্তৃত বাণিজ্যের পরিসরে কোন নির্দিষ্ট পণ্যের আড়ালে অর্থপাচার হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জটিল এবং গবেষণাসাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। আমদানি পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ, পণ্যের দামের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন ব্যবস্থার মতো কঠোর নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও অর্থপাচারের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সরকার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ও সতর্ক রয়েছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অর্থপাচারের উৎসগুলো খুঁজে বের করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়ম বা পাচারের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।