রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি, ট্রাক সংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

ঈদের পরদিনও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পশুর বর্জ্যে সয়লাব হয়ে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও পুরান ঢাকার অলিগলি এবং প্রধান সড়কে এখনো পশুর নাড়িভুঁড়ি, চামড়া ও রক্তমাখা বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গরম আবহাওয়ার কারণে এই বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ময়লা জমে থাকায় চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ড্রেনগুলো বর্জ্যে আটকে যাওয়ায় কোথাও কোথাও রক্তমাখা নোংরা পানি জমে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতার কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নগরবাসী।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম ট্রাকের অপ্রতুলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, পরিবহনের সীমাবদ্ধতার কারণেই শহরের সব ময়লা নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত পুরো শহরকে বর্জ্যমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসক আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হাটের বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি প্রদর্শনকারী ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শর্ত ভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত থেকে বড় অংকের জরিমানা আদায় করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বর্জ্য অপসারণের দ্বিতীয় দিনে ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
