কোরবানি দিতে গিয়ে সারাদেশে আহত ৫৭৬ জন

ঈদুল আজহার দিনে পশু কোরবানি ও মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে সারাদেশে কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পশুর লাথি ও গুঁতোয় জখম হওয়ার ঘটনাতেই আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঈদের দিন শতাধিক রোগী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালসহ রাজধানীর অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আরও ২৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে সেবা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগরীতেই আড়াইশতাধিক মানুষ কোরবানি সংশ্লিষ্ট কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

ঢাকার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও রোগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে মৌলভীবাজারে ৫০ জন এবং জামালপুরের ইসলামপুরে গরুর লাথি ও ছুরির আঘাতে স্থানীয় ইমামসহ অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের অধিকাংশই কোরবানির পশুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত ধারালো ছুরি ও দা’র আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। অনেকের হাত ও পায়ের গভীর ক্ষত শুকাতে একাধিক সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছে। এছাড়া গরু বা মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীর আকস্মিক লাথি কিংবা চাপে হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ নানা শারীরিক জখমের শিকার হয়েছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞতার অভাব এবং মৌসুমি কসাইদের অসতর্কতার কারণেই প্রতিবছর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। যদিও প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে সতর্কতা এবং পশু নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবুও সচেতনতার অভাবে ঈদের আনন্দ ম্লান হওয়ার মতো এসব ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি সম্পন্ন হয় এবং দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ স্থানে মাংস কাটাকাটির কাজ শেষ হয়।

সম্পর্কিত- ঈদুল আজহা
0%
0%
0%
0%