কিচেন কেবিনেট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সাবেক উপদেষ্টার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন কেবিনেট’ বা ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বিশেষ মহলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে সরকারের নীতিনির্ধারণী অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ের ওপর বহিরাগত প্রভাবের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
তৌহিদ হোসেনের ভাষ্যমতে, সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্ধকারে রাখা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং এ বিষয়ে তাকে অবগতও করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির নেপথ্যে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তৌহিদ হোসেনের মতে, এ ধরনের চুক্তির সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের না নিয়ে নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া সংগত ছিল।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অপর উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেই সরকারের বড় ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তৌহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠির বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো জবাব দেয়নি, তবে তার প্রত্যাশাও খুব বেশি ছিল না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে কোনো দলই চিরতরে হারিয়ে যায় না। মানুষের স্মৃতিশক্তি সীমাবদ্ধ হওয়ায় তিনি বিশ্বাস করেন, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
পররাষ্ট্রনীতির কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি নিজের দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের অনুগত না হয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে বলেন, সব পক্ষকে সামলানোই ছিল তার প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে এখনই কোনো মূল্যায়ন করতে রাজি হননি এই সাবেক কূটনীতিক।