ফায়ার সার্ভিসকে আরও শক্তিশালী করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

**ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী**

বিজ্ঞাপন

**ঢাকা:** সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একথা জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬” এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন এবং ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন।

এসময় মন্ত্রী বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে পদক তুলে দেন। এদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস সেবা প্রদান করছে, যা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ বিষয়টি বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে। ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এই বাহিনীর সেবা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সেবার সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাবনাও বিবেচনাধীন আছে।

আবাসন সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকার মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে “ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা” এবং ফ্রেশ মানি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালক মো. ছরোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0%
0%
0%
0%