ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়নে প্রতি শনিবার নিজ নিজ দপ্তরে বিশেষ কর্মসূচি পালনের সরকারি কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বান্দরবান কেন্দ্রীয় বেতারে তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বেতার, বান্দরবান কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক (দৈনন্দিন দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রতি শনিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রের অনুষ্ঠান, প্রকৌশল ও বার্তা শাখার সমন্বয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনিয়মিত শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে প্রতি শনিবার নিজ নিজ দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে তার তথ্য ও প্রমাণক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত শনিবার বান্দরবান বেতার কেন্দ্রে এই নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি, যা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা জারির পরও তা বাস্তবায়নে উদাসীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বেতার, বান্দরবান কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক (দৈনন্দিন দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলাম জনবল সংকটের অজুহাত তুলে জানান যে, নির্ধারিত দিনে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি এবং তা পরের দিন করা হবে। তবে বাইরের কোনো মানুষ দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি নেতিবাচক উত্তর দিলেও পরবর্তী সময়ে এই অভিযান বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল নোটিশ বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
কর্মচারীদের সরাসরি অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত দিনে তা না করে অন্যদিন করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত রাখা এবং পরবর্তী সময়ে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় বেতার কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি। বেতার কেন্দ্রের আঙিনা, নালা-নর্দমা, ছাদ কিংবা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা সময়মতো অপসারণ না করলে এডিস মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র গড়ে উঠতে পারে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিল্পীসহ সেখানে আগত সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জনস্বার্থে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা না করে অবিলম্বে বেতার কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।