Advertisement

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ, পরিস্থিতি বিবেচনায় মহামারি ঘোষণার দাবি বিএনপির

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে মেঝে কিংবা বারান্দায়।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির প্রেক্ষিতে খুলনাকে মহামারি এলাকা ঘোষণা এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছে মহানগর বিএনপি। গত সোমবার দুপুরে কেডি ঘোষ রোডে আয়োজিত দলের এক জরুরি সভায় নেতারা অভিযোগ করেন যে, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গত এক সপ্তাহে আইনজীবী ও একজন গৃহবধূসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যুতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও অবকাঠামো না থাকায় সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মশা নিধনে প্রশাসনের ভূমিকা কেবল লোকদেখানো ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন। নিয়মিত লার্ভিসাইড ছিটানো এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে মশা নিধনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

খুলনার নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সভায় অবিলম্বে ডেঙ্গু মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে রোগ নির্ণয়, পর্যাপ্ত প্লাটিলেটের সরবরাহ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার দাবি জানান নেতারা।

বিজ্ঞাপন

মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দলীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মশা নিধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় তাদের প্রশংসা করা হয়।

0%
0%
0%
0%