জনবল ও ওষুধ সংকটে তালাবদ্ধ নেত্রকোনার দুর্গাপুরের ৫ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসা বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ তালাবদ্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক ও অসহায় মানুষ। প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে কেন্দ্রে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এতে গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শহরে গিয়ে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাঁচটি কেন্দ্রে ২৫ জন কর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র আটজন। দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময় ধরে চলা ওষুধ সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলো কার্যত সেবাবহির্ভূত হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরিশিরি ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো প্রায়শই তালাবদ্ধ থাকে।
কাকৈরগড়া ইউনিয়নের মাজেদা বেগমসহ স্থানীয়রা জানান, সরকারি এই কেন্দ্রগুলোই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ না পাওয়ার পাশাপাশি এখন নিয়মিত কেন্দ্র বন্ধ থাকায় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে না পেরে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়েও একই চিত্র বিরাজ করছে। সেখানে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে মাত্র একদিন উপস্থিত থাকেন। জনবলের এই তীব্র সংকটের কারণে রুটিনমাফিক সেবা প্রদান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
নেত্রকোনা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, শুধু দুর্গাপুর নয়, সারা দেশেই জনবল ও ওষুধের সংকট রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ওষুধের সংকট নিরসনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে চিকিৎসা সুবিধা থেকে দীর্ঘস্থায়ী এই বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অবিলম্বে জনবল নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
