চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত নতুন আক্রান্ত ৪২ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) নতুন করে আরও ৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সর্বমোট ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯ জনে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আগের রোগী ও নতুনদের মধ্য থেকে সুস্থ হয়ে ৪৯ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে দুজন পুরুষ রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে জেলা হাসপাতালে সর্বমোট ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় বহির্বিভাগে নতুন করে আরও ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৬০৭ জনে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে মোট ১৩৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর এই ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অতিরিক্ত তিনজন চিকিৎসককে জেলা হাসপাতালে সংযুক্ত করে পদায়ন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডকে ৮ ভাগে বিভক্ত করে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় কয়েকটি বাসাবাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

০%
০%
০%
০%