লন্ডনের গ্ল্যামারাস ও ব্যস্ত জীবন পেছনে ফেলে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই রোমাঞ্চকর সময়ে স্বদেশে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাহানা বাজপেয়ী। কর্মজীবনের শত ব্যস্ততা আর দাপ্তরিক চোখরাঙানি উপেক্ষা করে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আকর্ষণীয় পোস্টে তিনি জানিয়েছেন এই বিশেষ প্রত্যাবর্তনের গল্প। বিলেতের এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও সংসার সামলানোর হাজারো গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকলেও, বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় এই উৎসবে মন টিকেনি তাঁর। কর্মক্ষেত্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার তিরস্কার ও বকুনি মাথায় নিয়েও শুধুমাত্র চারদিনের ছুটি ম্যানেজ করে দেশের টানে ছুটে এসেছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।
সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে প্রকাশিত সেই পোস্টে সাহানা অকপটে তুলে ধরেছেন তাঁর প্রবাস জীবনের টানাপোড়ন। যখন টলিপাড়ার অধিকাংশ কণ্ঠশিল্পী পূজার শো করার জন্য আমেরিকা বা ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছেন, তখন স্রোতের বিপরীতে হেঁটে হিথরো বিমানবন্দর থেকে উল্টো পথ ধরেছেন তিনি। কর্মক্ষেত্রের বস তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছিলেন, গান গাইবেন নাকি পাঠদান করবেন—এবার যেকোনো একটি পেশা বেছে নিতে হবে। তবে ভক্তদের নিরাশ না করতে মিস হওয়া ক্লাসগুলোর বাড়তি চাপ আগেই পুষিয়ে নিয়ে স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। যদিও এই যাত্রায় নিজের প্রিয় শহর শান্তিনিকেতনে পা রাখা হচ্ছে না, তবুও মুম্বই ও হায়দরাবাদের কনসার্ট মাতিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করবেন তিনি।
পোস্টের কমেন্ট বক্সে এক পরিচিতজন তাঁকে বিদেশযাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে সাহানা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তাঁর পাসপোর্ট এখনো ভারতীয়। ব্রিটিশ জীবনসঙ্গী রিচার্ড হেররেটকে বিয়ে করে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও এবং কন্যাসন্তান রোহিনী এলিজাবেথকে নিয়ে বিলেতে সংসার পাতলেও নিজের শিকড়ের প্রতি তাঁর এই অবিচল টান মুগ্ধ করেছে অনুরাগীদের। এর আগে ২০০০ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিবাহ এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে বিচ্ছেদ ঘটেছিল।
দূর প্রবাসের মাটিতে থেকেও আবহমান বাংলার সুর ও রবীন্দ্রসংগীতের চর্চাকে হৃদয়ে লালন করে চলেছেন সাহানা বাজপেয়ী। কর্মজীবনের হাজারো কঠোরতা আর দূরত্বের প্রাচীর ভেদ করে প্রতিবারের মতো এবারও তাঁর এই দেশে ফেরা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে এক অন্যরকম নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। তাঁর এই অকৃত্রিম দেশপ্রেম এবং বাংলার গানের প্রতি আজীবন সমর্পণ প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব কখনো শিল্পীর মন থেকে তাঁর মাতৃভূমি ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলতে পারে না।