Advertisement

দাদাগিরির মঞ্চে বাজিমাত আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির

বাংলার রাজনীতির ময়দানে তিনি যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, বিনোদনের পর্দাতেও ঠিক তেমনই উজ্জ্বল নওশাদ সিদ্দিকি। ফুরফুরা শরিফের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান এবং ভাঙড়ের তরুণ বিধায়ক সম্প্রতি উপস্থিত হয়েছিলেন জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে। অভিনেতা ও সাংসদ দেবের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই বিশেষ পর্বে রাজনীতির ময়দানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এক সারিতে দেখা গেলেও, নজর কেড়েছেন আই এস এফ-এর এই তরুণ তুর্কি।

রাজনীতিতে বিদ্যুৎগতিতে উত্থান ঘটানো নওশাদকে নিয়ে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে শোয়ের মঞ্চে মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, সজল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত লড়াই জিতে দাদাগিরির ট্রফি নিজের দখলে নিয়েছেন ‘ভাইজান’। তবে কেবল জয় নয়, দেবের করা একের পর এক গুগলি আর মজাদার প্রশ্নে নওশাদের লাজুক প্রতিক্রিয়া ছিল অনুষ্ঠানের বাড়তি পাওনা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে টস রাউন্ডে দেবের করা একটি প্রশ্নে বেশ অস্বস্তিতে পড়েন নওশাদ। ‘এটি অনেকেই দেয়’—এই ক্লু থেকে রাজনৈতিক উত্তরের সন্ধানে গিয়ে তিনি প্রথমে ‘ভোট’ বললেও, পরে দেবের টিপ্পনীতে পরিস্থিতি জমে ওঠে। দেব যখন রসিকতা করে জানতে চান, কাউকে ‘মন’ দিয়ে ফেলেছেন কি না, তখন লজ্জায় রাঙা নওশাদ অকপটে স্বীকার করেন যে, তার মন এখন পর্যন্ত ‘খালি’ রয়েছে।

মঞ্চে মদন মিত্রের দেওয়া ‘রক্ত’ উত্তরটি সঠিক প্রমাণিত হলে উপস্থিত সকলেই হাততালিতে ভরিয়ে দেন। রাজনীতির বাইরে নওশাদের এমন সাবলীল ও মানবিক রূপ দর্শকদের বেশ মুগ্ধ করেছে। ‘মুখ আর মুখোশ আলাদা নয়’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণ বিধায়ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেবল বিধানসভার গম্ভীর ভাষণে নয়, বিনোদনের মঞ্চেও তিনি সমানভাবে দক্ষ। সব মিলিয়ে দাদাগিরির এই পর্বটি হয়ে রইল রাজনীতির মারপ্যাঁচ আর নির্মল বিনোদনের এক অনন্য মিশ্রণ।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%