দুর্গাপূজার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে সরব পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়

শরৎ আকাশের সাদা মেঘের ভেলা আর কাশের দোলা জানান দিচ্ছে, মা আসছেন। তিলোত্তমার অলিগলিতে এখন পুজোর আমেজ, প্যান্ডেলের বাঁশ পোতার ব্যস্ততা। তবে বাঙালির বারোয়ারি উৎসবের এই মহোৎসবে এবার যেন রাজনীতির ছায়া দীর্ঘতর। রাজনীতির অন্দরমহলের পালাবদলে ক্লাবগুলোর অন্দরেও যখন প্রশাসনিক রদবদল, তখন উৎসবের আবহে মিশেছে খানিকটা অস্বস্তি। নতুন পোশাকের গন্ধ আর কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার উৎসবে এবার আচমকাই বাগড়া বসিয়েছে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পুজো নিয়ে শাসকদলের কিছু নেতানেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতিতে আঘাত হেনেছে। পুজোর খাবারের মেনু থেকে শুরু করে থিম পুজো—সবকিছু নিয়েই শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন জনপ্রিয় মুখ পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মাছ, মাংস, ফিশফ্রাই কিংবা এগ রোলকে বাদ দিয়ে মেনু চার্ট তৈরির অযৌক্তিক প্রস্তাবনার ঘোর বিরোধী তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরমা লিখেছেন, রাজমা-চাওয়ালের মতো খাবারের তালিকায় পুজোর আমেজ খোঁজা বিড়ম্বনা মাত্র।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কিছু নির্দেশিকা। যদিও পরে তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে, তবে পুজো মণ্ডপে আমিষ খাবার বা থিম পুজোর শিল্পসত্তাকে খাটো করার মানসিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান। বিজেপির নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সতর্ক করেছেন প্রতিমার রূপায়ন এবং প্যান্ডেলের অন্দরসজ্জা নিয়ে। মা দুর্গার মুখাবয়ব থেকে শুরু করে শিল্পের নামে তথাকথিত আধুনিকতা—সবকিছু নিয়েই চলছে হুঁশিয়ারি।
শিল্পের নামে যা খুশি তা করার অধিকার নেই, এমন কড়া বার্তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, থিম পুজো তো এখন গোটা দেশের গর্ব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই তো গ্রামীণ কারিগর থেকে শিল্পীমহলের একটা বড় অংশের রুজি-রোজগার নিশ্চিত হয়। শিল্প ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে রাজনীতির হস্তক্ষেপ কেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, সাধারণ বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানেই চিরন্তন আবেগ আর ঘরের মেয়ের ফিরে আসা। মণ্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকের আওয়াজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডার ভিড়ে এই ছোটখাটো বিতর্ক হয়তো ধামাচাপা পড়ে যাবে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাজনীতির বেড়াজালে বাঙালির প্রাণের উৎসবের স্বাভাবিক ছন্দ কি সত্যিই পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকবে? পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই এখন রাজনীতির এই মেরুকরণকে দেখছেন সংশয়ের চোখে, কারণ পুজোর আনন্দটুকু কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ বা গাইডলাইনের মুখাপেক্ষী হতে রাজি নয় উৎসবপ্রেমী বাঙালি।
