না ফেরার দেশে মা মাসি কিচেনের জ্যোতিপ্রসাদ বসু শোকস্তব্ধ অনুরাগীমহল

সোশ্যাল মিডিয়ার ঝকঝকে দুনিয়ায় আড়ম্বরহীন সহজ-সরল উপস্থাপনা দিয়ে যারা অগণিত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেই ‘মা মাসি কিচেন’-এর অন্দরমহলে নেমে এল শোকের ছায়া। রান্নাঘরের খুন্তি আর ভালোবাসার স্পর্শে ভরা যে সংসারকে ঘিরে দর্শক নিয়মিত মুগ্ধতা খুঁজে পেতেন, তার অন্যতম প্রাণপুরুষ জ্যোতিপ্রসাদ বসু আর নেই। দীর্ঘ ৪৭ বছরের জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকার্ত শিউলি দেবী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বা সিওপিডি-তে ভুগছিলেন জ্যোতিপ্রসাদ। নিয়মিত অক্সিজেন সাপোর্টের ওপর নির্ভরশীল এই মানুষটির চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি থাকত, যখন শিউলি দেবী তাঁর প্রিয় কোনো পদ রেঁধে সামনে এনে হাজির করতেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে গত ৭ আগস্ট হঠাতই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর হাসপাতালের শয্যায় জীবনযুদ্ধ লড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১৩ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
এই দুঃসংবাদটি ভক্তদের কাছে পৌঁছাতে শিউলি দেবীর কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি নিজেও শোকের তীব্রতায় বাকরুদ্ধ ছিলেন। নিজের ফেসবুক পেজে আবেগমথিত কণ্ঠে তিনি লিখেছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণেই এতদিন প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে এই বেদনাদায়ক সংবাদটি ভাগ করে নিতে পারেননি। ৪৭ বছরের দীর্ঘ পথচলার সাথীকে হারানো যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা তাঁর প্রতিটি শব্দে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রিয় ‘মেসোমশাই’-এর প্রয়াণের খবরে স্তম্ভিত নেটিজেনরাও। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় পাতায় এখন কেবলই আক্ষেপ আর স্মৃতিচারণ। নেটিজেনদের মন্তব্য থেকে উঠে আসছে সেই চিরচেনা দৃশ্যগুলো—শিউলি দেবীর পরম মমতায় বেড়ে ওঠা খাবার আর তৃপ্তিসহকারে খাওয়ার সময় জ্যোতিপ্রসাদ বসুর চোখের সেই অনাবিল আনন্দ। ডিজিটাল যুগে যখন মানুষ কৃত্রিমতায় ব্যস্ত, তখন শিউলি দেবী ও জ্যোতিপ্রসাদ বসুর এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও রসায়ন ছিল এক টুকরো শান্তির নীড়। তাঁদের সেই ঘরোয়া আড্ডার সাক্ষী হতে না পারার শূন্যতা এখন ভক্তদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেল।
