ফোনের আলাপ থেকে দাম্পত্যের দুই দশক চঞ্চল চৌধুরীর রোমাঞ্চকর প্রেমকাহিনি

বাটন ফোনের টুংটাং শব্দের সেই দিনগুলোতে গভীর রাতে আসা একটি অপরিচিত ফোনের কল যে চঞ্চল চৌধুরীর জীবন বদলে দেবে, তা কে জানত! ফোনের ওপার থেকে এক তরুণীর কণ্ঠ ভেসে এল, ‘আপনার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে।’ সেই মুহূর্তেই অভিনয়ের প্রশংসা ছাপিয়ে চঞ্চলের মনে গেঁথে গিয়েছিল এক গভীর ভালো লাগা। সেই তরুণী, অর্থাৎ শান্তা চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা শুরু হয়, আর এক মাসের পরিচয়েই অভিনেতা সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। ওপার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর আর দেরি করেননি জনপ্রিয় এই অভিনেতা। নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রেখেই দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের যাত্রা শুরু করেন তাঁরা।
বিয়ের বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বিশে বিষক্ষয়!’ সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তখন বয়সের চাপে পরিবার থেকেও বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ আসছিল। বাবা-মা চেয়েছিলেন ছেলের বিয়ে হোক, কিন্তু চঞ্চলের এই আকস্মিক বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। তবে চঞ্চলের পথচলা এতটা মসৃণ ছিল না। শান্তা পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনসঙ্গী যেন চিকিৎসকই হন। অন্যদিকে চঞ্চল তখন সবেমাত্র অভিনয়ে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন। সব জল্পনা-কল্পনা আর অমতকে তুচ্ছ করেই দুজন আইনি ও ধর্মীয় প্রক্রিয়ায় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।
চঞ্চলের জীবনের এই প্রেমকাহিনি শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। চঞ্চলের বড় ভাই পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন এবং শান্তা ছিলেন তাঁর ছাত্রী। বাবার অসুস্থতার সুবাদে হাসপাতালে চঞ্চলের সঙ্গে শান্তার প্রথম দেখাই হয়েছিল, যেখান থেকেই মূলত সম্পর্কের চারাগাছটি রোপিত হয়। পরবর্তীতে ফোন নম্বর জোগাড় করে শান্তার সেই ফোন কলই চঞ্চলকে পৌঁছে দেয় এক নতুন গন্তব্যে। শুরুর দিকে শ্বশুরবাড়িতে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় সব বাধা দূর হয়েছে। পরবর্তীতে শান্তার বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মা সানন্দেই চঞ্চলকে জামাই হিসেবে আপন করে নেন।
‘আমার মতো একজন বাউন্ডুলের সঙ্গে এই ভদ্রমহিলা যে এত দিন সংসার করে যাবেন, তা কখনো ভাবিনি!’—নিজের স্বভাবসুলভ বিনয় আর রসবোধ মিশিয়ে দুই দশকের সংসার নিয়ে ঠিক এভাবেই লিখলেন চঞ্চল চৌধুরী। তাঁদের একমাত্র সন্তান শুদ্ধকে নিয়ে এখন সুখের সংসার। দীর্ঘ কুড়ি বছরের এই পথচলায় চঞ্চল স্ত্রী শান্তা ও ছেলে শুদ্ধের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তাঁরা যে ভালো আছেন, তা জানাতেও ভোলেননি এই তারকা। দুই দশকের এই সফর কেবল ভালোবাসারই নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
