Advertisement

খুদে ভক্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হৃদয় জিতলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

বাংলার বিনোদন জগতের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার নামের সাথেই জড়িয়ে আছে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তকমা, সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আবারও প্রমাণ করলেন যে অভিনয়ের জাদুকরী দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর হৃদয়টাও কতটা বিশাল। বাংলা সিনেমার দুঃসময়ে একাই হাল ধরে যে মানুষটি ইন্ডাস্ট্রিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন, সেই প্রসেনজিৎ আজ কেবল একজন তারকা নন, বরং অগণিত ভক্তের অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও ক্লিপে অভিনেতার এক মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী রূপ সামনে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে অবস্থিত অভিনেতার বাসভবন ‘উৎসব’-এর সামনে। রাস্তায় পেন বিক্রি করা এক খুদে ভক্তের স্বপ্ন ছিল প্রিয় নায়ককে সামনাসামনি দেখার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সে নিয়মিত অপেক্ষা করত প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে। খুদে ভক্তের এই আবেগের কথা জানতে পেরে কোনো তারকা সুলভ অহমিকা না দেখিয়েই স্বয়ং প্রসেনজিৎ বেরিয়ে আসেন তার সঙ্গে দেখা করতে। প্রিয় নায়ককে চোখের সামনে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে সে যখন তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, তখন টলিউডের এই ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’ স্নেহের পরশ বুলিয়ে তাকে আশীর্বাদ করেন। এই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ নেটিজেনরা তাঁকে ‘লিভিং লেজেন্ড’ ও ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, উত্তম কুমারের প্রয়াণের পর বাংলা সিনেমাকে নতুন দিশা দেখানোর কারিগর তিনিই।

বিজ্ঞাপন

প্রখ্যাত অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র হয়েও প্রসেনজিতের পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। সত্তরের দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু করে আজ তিনি চার শতাধিক চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত নায়ক। ঋত্বিক ঘটকের সহকারী বিমল রায়ের পরিচালনায় ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, ১৯৮৭ সালে তরুণ মজুমদারের ‘অমর সঙ্গী’ তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই সিনেমার কালজয়ী গান ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ আজও বাঙালির নস্টালজিয়ার কেন্দ্রে।

পরবর্তী সময়ে ঋতুপর্ণ ঘোষ, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং গৌতম ঘোষের মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। ২০০৭ সালে ‘দোসর’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড এবং পরবর্তীতে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তি তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছে। তবে পুরস্কার কিংবা খ্যাতির চেয়েও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই মানবিক কর্মকাণ্ডই বারবার প্রমাণ করে দেয়, কেন তিনি আট থেকে আশির হৃদয়ে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে টিকে আছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%